আসানসোল: বাংলার দুর্গোৎসব বহুবর্ণিল। শুধু নিজেদের আনন্দেই সীমাবদ্ধ না থেকে, সেই সমস্ত মানুষের মধ্যেও আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাঁদের জীবনে এমন রঙের কল্পনাও করা যায় না। আসানসোল শহরের ইসমাইলে অবস্থিত 'স্ব-শক্তি সদন হোম'। এখানে থাকা অনাথ ও নির্যাতিত নারীদের নিরাপত্তার কারণে সারা বছর চার দেওয়ালের মধ্যে থাকতে বাধ্য হতে হয়। গত ১০ বছর ধরে প্রতি দুর্গোৎসবে তাঁদের জীবনে কিছুক্ষণের জন্য হলেও খুশির আমেজ নিয়ে আসেন আসানসোল ইস্টার্ন রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক, ‘ইওর অর্গানাইজেশন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন’-এর সম্পাদক এবং সমাজকর্মী বিশ্বনাথ মিত্র। তিনিই হোম-এর সমস্ত সদস্যকে পুজো পরিক্রমা করান। এবছরও তিনি তাঁদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন। বাসের ব্যবস্থা করেছিলেন প্রাক্তন মেয়র পরিষদ সদস্য গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় ওরফে রকেট। আমেরিকা থেকে আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাঙালি পল উপাধ্যায়। হোম সুপারিনটেনডেন্ট সেরিনা মণ্ডল এবং রেলওয়ে স্কুলের প্রাক্তন প্রধানশিক্ষিকা রঞ্জনা মুंशी কঠোর নজরদারির দায়িত্ব নেন।
দিন, ধর্ম, জাতি ও ভাষার ভেদাভেদ ভুলে সকলে একসঙ্গে শারদোৎসবে শামিল হন। তাঁরা আসানসোল, বার্নপুর ও কল্যাণপুরের রবীন্দ্রনগর, রাধানগর, এসি টাইপ, কল্যাণপুর, অপকার গার্ডেন থেকে ট্রাফিক কলোনি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং আলো, মূর্তি ও মানুষের ভিড় উপভোগ করেন। হাতে রাতের খাবারের প্যাকেট নিয়ে যখন তাঁরা ঘরে ফিরছিলেন, তখন তাঁদের চোখে-মুখে ছিল তৃপ্তি ও আনন্দের ভাব।

