আসানসোল। বিজয়াদশমীতে নীলকণ্ঠ পাখি দেখা শুভ বলে মনে করা হয়। পুরাণে একে ভগবান শিবের দূত বলা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই পাখিটি ভগবান শিবকে মা দুর্গার প্রস্থানের বার্তা দেয়। অন্য একটি বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান শিব নীলকণ্ঠ পাখির রূপ ধারণ করে ভগবান শ্রীরামকে বিজয়ের আশীর্বাদ দিয়েছিলেন। নীলকণ্ঠের দর্শন অত্যন্ত শুভ এবং মঙ্গলদায়ক বলে মনে করা হয়। জাতকের ওপর ভগবান শিবের কৃপা সর্বদা বজায় থাকে। ইংরেজিতে এই পাখিকে ইন্ডিয়ান রোলার (Indian Roller) বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম কোরাসিয়াস বেঙ্গালেনসিস (Coracias benghalensis), সংস্কৃত নাম নীলকণ্ঠ এবং তেলুগুতে একে পালা-পিট্টা বলা হয়। এটি ওড়িশা, তেলেঙ্গানা এবং কর্ণাটকের রাজ্য পাখি। বিগত কয়েক বছরে এর সংখ্যায় মারাত্মক পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) এটিকে 'লিস্ট কনসার্ন' (সর্বনিম্ন সংকটজনক) শ্রেণি থেকে সরিয়ে 'নিয়ার থ্রেটেনেড' (সঙ্কট আসন্ন) শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। গত ১২ বছরে এর সংখ্যা ৩০ শতাংশ থেকে ৪১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এর সংখ্যা কমে যাওয়ার মূল কারণগুলির মধ্যে রয়েছে দ্রুত নগরায়ন, জঙ্গল কাটা এবং তৃণভূমি কমে যাওয়া। এটি পুরনো ও উঁচু গাছের ফাঁপা শিকড়ে ডিম পাড়ে। এই ধরনের গাছের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। খেটে রাসায়নিক কীটনাশক ও সারের ব্যবহারের ফলে এর খাদ্য পোকামাকড়, ফড়িং ও গোবরে পোকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দূষিত পোকা খাওয়ার ফলে এদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর খারাপ প্রভাব পড়ছে। মোবাইল ফোন টাওয়ার থেকে নির্গত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনও এদের প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। ২০১২-১৩ সাল পর্যন্ত পশ্চিমের জেলাগুলিতে নীলকণ্ঠ প্রচুর পরিমাণে দেখা যেত, কিন্তু তারপর থেকে এর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
ব্রেকিং নিউজ
আসন্ন দশকগুলিতে বিজয়াদশমীতে দেখা যাবে না ভগবান শিবের বার্তাবাহক নীলকণ্ঠকে
বিজয়াদশমীতে ভগবান শিবের বার্তাবাহক হিসেবে বিবেচিত নীলকণ্ঠ পাখি (ইন্ডিয়ান রোলার) দ্রুত বিলুপ্তির পথে। অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, জঙ্গল ধ্বংস এবং অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে গত এক দশকে এদের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

पहाड़ पर बैठे नीलकंठ का फाइल फोटो|Arthik Dhara Photo
বিজ্ঞাপন
আর্থিক ধারায় আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন দিন
পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের হাজার হাজার বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক নেতাদের কাছে পৌঁছান।
