আসানসোল: বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে অবাধে বালি আসছে বাংলায়। সীমান্তবর্তী বীরভূম জেলার ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতারা জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অভিযোগ উঠেছে, অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা যানবাহনের নথিতে থাকা QR কোড সরকারি তথ্য স্ক্যান করার সময় মিলছে না। ফলস্বরূপ, ইনভয়েসের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বালি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের সুযোগ নিয়ে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে অত্যন্ত কম দামে বাংলার সীমান্ত জেলায় বালি বিক্রির চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, রামপুরহাট সীমান্ত অঞ্চল ছাড়াও জেলার বিভিন্ন পথ দিয়ে বালি বোঝাই এই সমস্ত গাড়ি প্রবেশ করছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী গত পহেলা আগস্ট থেকে নদী থেকে বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বালি পরিবহনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বালির জোগান কমে গেছে। তাদের মতে, নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হলে এই সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বালি আগে থেকেই মজুত রাখতে হয়। সেই বালির জন্য সরকারি কর এবং অন্যান্য নির্ধারিত খরচ বহন করতে হয়। ফলস্বরূপ, এই সময়ে বালির দামও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকে। অভিযোগকারীদের দাবি, গাড়িচালকদের দেখানো কাগজে QR কোড থাকলেও স্ক্যান করলে কোনো তথ্য মিলছে না। সঠিক কনসাইনমেন্ট হলে QR কোড স্ক্যান করলে গাড়ি, মালিক, পরিবহনের উৎস এবং গন্তব্যসহ নানা তথ্য পাওয়া যায়। এমনকি ইনভয়েসের মেয়াদও জানানো হয়। কিন্তু কিছু সন্দেহজনক ইনভয়েসের ক্ষেত্রে স্ক্যান করার পর 'পাওয়া যায়নি' বার্তা আসছে বলে অভিযোগ।
বালি ব্যবসায়ীদের মতে, তারা নিয়ম মেনে কর দিয়ে বালি জমা করছেন। কিন্তু বাইরে থেকে কম দামে বালি এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈধ ব্যবসার ওপর। তাই জাল চালানের অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য থেকে বালির প্রবেশ আটকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত ও সড়কে নজরদারি বাড়ানোর দাবি তোলা হচ্ছে। জেলা পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

