ধনাবাদ। ধনাবাদে জেলা খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের তদন্ত অভিযানে বাজার, হোটেল ও ধাবাগুলোতে বিক্রিত প্রায় ৫০ শতাংশ পনির নকল বা ভেজাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে 'চম্পাই রঙ' (চামড়া ট্যানিংয়ের রঙ) ব্যবহারের বিষয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এই রঙ চামড়া ট্যানিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, অথচ ভেজালকারীরা মিষ্টি, মোমো, মাঞ্চুরিয়ান ও চ্যাটে অবাধে এর ব্যবহার করছে।
প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস পনির স্বাস্থ্যের পরিবর্তে মারাত্মক রোগ ছড়াচ্ছে। দুর্গোৎসবের পর এবার দীপাবলিকে সামনে রেখে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বিভাগ। চাহিদার সুযোগ নিয়ে ভেজালকারীরা সিন্থেটিক ও নকল পনির তৈরি করছে। মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৮ মাসে ৫ কুইন্টালের বেশি নকল ও ভেজাল পনির জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। মোট ৩১৫টি ভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনার পরীক্ষা করা হয়েছে। ১৫০ জন দোকানদারকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গুরুতরভাবে নষ্ট প্রমাণিত হওয়া ৩০টি নমুনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জরিমানা করা হয়েছে। মোবাইল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে অন-স্পটে ২০০টির বেশি ঠেলা, গুপচুপ (পানিপুরি) ও মোমোর দোকান পরীক্ষা করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ দোকানদার ও গ্রাহকদের চম্পাই রঙের ব্যবহার সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে। সরকারের দ্বারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এই রঙ মূলত চামড়া ট্যানিংয়ের কাজে লাগে, কিন্তু ভেজালকারীরা মিষ্টি, মোমো, মাঞ্চুরিয়ান ও চ্যাটে এর নির্বিচারে ব্যবহার করছে। শরীরে প্রবেশ করে এই নিষিদ্ধ রঙ ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

