আসানসোল। খিদিরপুর ইউনিভার্সাল দুর্গোৎসব কমিটি এবার সাহিত্যকে তাদের থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। কমিটির দাবি, তাঁর সাহিত্যকৃতি আগামী বহু প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। এই পুজোর সূচনা হয়েছিল ১৯২৭ সালে। শততম বর্ষপূত্রিকে স্মরণীয় করে রাখতে পুজোর কনসেপ্ট হলো— 'আমি শত বছর ধরে যার পূজা করেছি, তাকে আনন্দমঠে যেতে হবে।' পুজো মণ্ডপটিকে আনন্দমঠের রূপ দেওয়া হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই উপন্যাসটি ১৮৮২ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়। এটি ভারতীয় ও বাঙালি সাহিত্য ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে বিপ্লবীদের প্রধান প্রেরণা 'বন্দে মাতরম' গানটি এই উপন্যাসেরই অংশ, যা পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা লাভ করে। এই উপন্যাসটি মূলত ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত হয়েছিল।
কমিটির সদস্যদের মতে, আনন্দমঠের বিভিন্ন দৃশ্য, চিত্র, প্রতীক ও ভাবনার মধ্য দিয়ে তাঁরা সেই মারই রূপ খুঁজে পেতে চান, যাঁর তাঁরা গত একশ বছর ধরে দুর্গা হিসেবে পূজা করে আসছেন। তাই পুজো প্রাঙ্গণকে সাহিত্য, ইতিহাস, শিল্প, ভক্তি এবং মার আদর্শের এক দৃশ্যমান যাত্রা হিসেবে সাজিয়ে তোলা হবে। দর্শনার্থীরা যখন প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করবেন, তাঁরা মার বহু রূপ দেখতে পাবেন, যেখানে সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যথা ও সংগ্রামের ছবিও ফুটে উঠবে।

